ইট পাথরের এই শহরে ,কর্ম চঞ্চলতার মাঝে সবুজ সিনিগ্ধ পরিবেশ এবং খোলা বাতাস পাওয়া এ যেন হাতে আকাশের চাদ পাওয়ার মতো!!! এই ইট পাথরের শহরের মাঝে এক টুকরো সবুজ ফিরিয়ে আনার জন্য হলে ও আপনার গাছ লাগানো প্রয়োজন।
চলুন আজকে জেনে নেয়া যাক কেন আপনি আপনার বাসার ছাদে/ঘরে/বারান্দায় গাছ লাগাবেন:-
মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধি করে:
কর্ম ব্যস্ততা শেষ এ সারাদিনের ক্লান্ত শরীরে যখন আপনি বাসায় ফিরে আপনার লাগানো গাছ গুলোর পরিচর্যা করবেন তখন অনুভূতি কেমন হবে?
সারাদিনের কাজের ব্যস্ততার যে মানুষিক চাপ তা থেকে যেন মুক্ত হয়ে একটুকরো সুবজ প্রকৃতির স্বর্গে ডুব দিলেন। তখন মনের অবস্থা ভালো ও প্রফুল্ল করে তোলে এবং ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করে।
রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে:
আমরা সবাই জানি গাছ থেকে তৈরী হয় অনেক জীবন রক্ষা করি যেসব বাড়িতে গাছপালা থাকার ফলে এলার্জি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, বিশেষ করে শিশুদের।
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, যেসব রোগীদের কক্ষে ইনডোর প্লান্ট ছিল তাদের ব্যথানাশক ওষুধের প্রয়োজন তুলনামূলক (যেসব রোগীর কক্ষে ঘরোয়া গাছ লাগানো হয়নি তাদের তুলনায়) কম ছিল, রক্তচাপ হ্রাস পেয়েছিল ও হার্ট রেট স্বাভাবিকে নেমে এসেছিল।
পরিবেশকে বাঁচাতে:
আমরা জানি, গাছ বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড হ্রাস করে এবং এটি অক্সিজেন ত্যাগ করে। তারই সাথে গাছপালা ধূলিকণা সংগ্রহ করে এবং বায়ুমণ্ডলে ক্ষতিকারক পদার্থগুলিও ভেঙে দেয়।গাছ বায়ু মন্ডলের ধোওয়ার টক্সিনগুলিকে ফিল্টার করে এবং বায়ু পরিষ্কার করে ,খরার প্রবণতা কমায়, বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ায়, পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ফলে, অতিরিক্ত তাপ অনুভব হয় না, পরিবেশকে সুশীতল রাখে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের ক্ষমতা বাড়ায়, দেশের আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে, পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং পানি স্ফীতির হাত থেকে রক্ষা করে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে।
সরকারি তথ্য মতে, ‘বাংলাদেশে ১৭% বনভূমি আছে, বিপরীতে ২৫% বনভূমি থাকা দরকার।’ যদি আপনি আপনার বাসার ছাদে/বারান্দায়/রুম এ গাছ লাগান তাহলে, বনাঞ্চলের পরিমাণও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে।
পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে:
গাছ কি শুধু বিপর্যয়গ্রস্ত পরিবেশকে বাঁচায় ? গাছ পরিবেশকে বাছানোর পাশাপাশি খাদ্য দিয়ে মানুষকে বাঁচায়!
পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনে গাছ রোপণ অতি জরুরি।
গাছ একসাথে পরিবেশ সুরক্ষায় যেমন নিবেদিত প্রাণ, তেমনি পুষ্টিচাহিদা পূরণেও এরা আমাদের অন্যতম ভরসাস্থল। আপনি আপনার বাসার ছাদে/বারান্দা গাছ থেকে আপনার পরিবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টির অনেক অংশ পূরণ করতে পারেন।
সওয়াবের জন্য:
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম গাছ লাগায় অথবা কোনো ফসল বোনে আর মানুষ ও পশুপাখি তা থেকে খায়, এটা রোপণকারীর জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (বুখারি: ২৩২০)। যত দিন পর্যন্ত রোপণকৃত গাছটি জীবিত থাকবে ঠিক তত দিন যত প্রাণী, পশুপাখি ও মানুষ সে গাছ থেকে ফুল, ফল ও ছায়া অর্থাৎ যেকোনো উপকার পাবে, তা রোপণকারীর আমলনামায় সদকায়ে জারিয়া হিসেবে লেখা হবে। রোপণকারী ব্যক্তি যদি মারাও যান তাহলে তাঁর আমলনামায় এ সওয়াব পৌঁছাতে থাকবে। যদি না জানিয়ে গাছ থেকে কোনো ফল খায় বা নিয়ে যায় তাতেও রোপণকারীর আমলনামায় সওয়াব পৌঁছে যাবে।
আরো বিস্তারিত জানতে/বাগান সম্পর্কে জানতে ফ্রি কনসালটেশনের জন্য কল করুন– 01812164069.